রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ নতুন বছরের শুরুতে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এর শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা জীবনকে আরও উন্নত করার জন্য প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন প্রত্যাশা। পার্বত্য অঞ্চলের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছরের কর্মব্যস্ততার পর, ২০২৬ সালকে তারা দেখছেন নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে। বিভিন্ন বিভাগের ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে জোর দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এমন নানা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন-
রাবিপ্রবির প্রতিনিধি রুথিনা বেসরা।
নতুন বছরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রত্যাশা জানাতে ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী মোঃ সাকিবুল হাসান বলেন, “পাহাড়ের বুকে এক স্বপ্নের নাম রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজে ঘেরা খোলামেলা ক্যাম্পাস আমাদের দেয় মানসিক স্বস্তি। রাজনৈতিক ও বাহ্যিক চাপ কম তাই একাডেমিক পরিবেশ তুলনামূলক অনেক ভালো। সেশনজট দূরীকরণ এবং আরও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে আমাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে নিজেদের পড়াশুনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”
ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের ফ্রান্সি চাকমা জানান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রদান করে, যেখানে একাডেমিক শিক্ষা, গবেষণা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে তাদের পড়াশুনা এবং গবেষণার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। এছাড়াও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে পর্যাপ্ত ফিল্ড ওয়ার্ক এবং স্টাডি ট্যুরের সুযোগ থাকলে আরও বেশি করে বন ও পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও প্রয়োগভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।”
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের হ্যাপি চাকমা নতুন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর ও পড়াশুনার উপযোগী পরিবেশে রূপান্তরিত করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন,”আমাদের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে যদি প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস, ল্যাব এবং ট্রেনিং সুবিধা থাকত, তাহলে আমাদের শেখা আরও ভালো হতো। তাই এই বছরে আমরা চাই এসব বিষয়ের উন্নয়ন হোক, যাতে আমরা ভালোভাবে শিখে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের আরও সম্ভাবনাময় করে গড়ে তুলতে পারি।”
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের জয়নাল আবেদীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শিক্ষকদের বন্ধুসুলভ আচরণকে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ক্যাম্পাস যেটি আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। রাবিপ্রবির ক্যাফেটেরিয়াতে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা বাড়ালে শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নিত্যদিনের ক্লাস কর্মসূচি আরও সহজ এবং সাবলীল হয়ে উঠবে। এছাড়াও ক্লাসরুম এবং ল্যাবের পরিমাণ বাড়লে গবেষণার কার্যক্রম আরও সহজ হবে।”
শিক্ষার্থীদের এই প্রত্যাশাগুলো পূরণ হলে রাবিপ্রবি আরও সময়েের উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। নতুন বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব দাবির প্রতি মনোযোগ দেবে বলে আশা করছেন তারা।



















