শীতের সকালের মাঠে লাঙল
শীতের সকালগুলো এমনই হয়—
নীরব, একটু কুয়াশামাখা,
আরও যেন একটু গোপন স্বপ্ন লুকানো থাকে পাতার আড়ালে।
দূরের বাঁশবাগানে ঠান্ডা বাতাস ঢেউ তুলে যায়,
আর সেই ঢেউ যেন নিঃশব্দে বলে—
“দিনটি আজ নতুন, কিছু একটা ঘটতে পারে।”
মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে সেই কৃষক,
মাথালের ভিতর থেকে উঁকি দেয় তার ক্লান্ত চোখ,
যেখানে হয়তো ঘুম আর স্বপ্নের মাঝামাঝি কোনো জায়গা এখনও রয়ে গেছে।
গরুর লাঙলের ফালা যখন মাটির গায়ে প্রথম দাগ তোলে,
মনে হয় পৃথিবী তার বুকে নতুন গল্প লিখে রাখতে চায়।
কোনো অক্ষর নেই, কোনো শব্দ নেই,
কিন্তু তবুও গল্প—
কারণ এই লাঙলের রেখায় আছে মানুষের আশা,
অটুট জীবনের বিশ্বাস।
কুয়াশার ভিতর দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো গায়ে পড়ে,
ক্রমে উষ্ণতা ঢুকে যায় মাঠের প্রতিটি শিরায়।
কৃষক থেমে এক মুহূর্ত আকাশের দিকে তাকায়—
মনে হয়, সে নিজের সাথে কথা বলে।
হয়তো বলে, “আজ ফসল ভালো হবে”,
বা হয়তো শুধু নিঃশব্দে হাসে
কারণ আশাই তার আসল শক্তি।
এভাবে প্রতিটি শীতের সকাল,
প্রতিটি লাঙলের দাগ,
প্রতিটি কুয়াশার পর্দা
গ্রামের গল্পকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যায়—
যেখানে মানুষ হার মানে না,
প্রকৃতিও তাকে ফেলে রাখে না।
লেখক: নূর মোহাম্মদ, শিক্ষার্থী, সিলেট।




















